জুনে দেশে করোনার ‘ফলস পিক’ ছিল

দেশে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২ হাজার ৬১৮ জন।

জুনে দেশে ৯৮ হাজার ৩৩০ জন আক্রান্ত হন ও মারা গেছেন ১ হাজার ১৯৭ জন। এ জন্য অনেকেই জুন মাসে দেশে করোনার পিক আওয়ার (চূড়ান্ত সংক্রমণ) ছিল বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে জুনে করোনার ‘ফলস পিক’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘জুনে ছিল করোনার ‘ফলস পিক’। ওই সময়ের মোট নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত ও মৃত্যুহারের সঙ্গে বর্তমানে মোট নমুনা পরীক্ষা ও মৃতের হারের পার্থক্য করে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের মোট নমুনা পরীক্ষা ও তদানুপাতে রোগী শনাক্ত বিবেচনায় শতাংশ হিসেবে বর্তমানে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উভয়ই বেশি। তবে দেশে রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুহার একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পিক চলে গেছে এটা মনে করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ করোনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন না করলে যেকোনো মুহূর্তে করোনা সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ওই সময় রোগী ও মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানসহ উপমহাদেশের কোনো দেশেই সংক্রমণ ও মৃত্যু ইউরোপ বা আমেরিকার মতো হুট করে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়েনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা একটু কমেছে। তবে সার্বিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আগের চেয়ে বেড়েছে। আগে শহর ও জেলায় সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে সংক্রমণ উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর